Saturday, 10 September 2016

¤¤ রবীন্দ্রসঙ্গীত ¤¤

¤¤ রবীন্দ্রসঙ্গীত ¤¤
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুর্লভ রঙিন ছবি!! ছবির বাম পাশের জন রবি ঠাকুরের কন্যা বেলা, এবং ডান পাশে রবি ঠাকুরের পুত্রবধূ প্রতিমা।। ছবিটি তুলেছিলেন আলবার্ট কাহেন (জুন, ১৯২১)
খুব কম মানুষেরই রবি ঠাকুরের রঙিন ছবি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে।। তাই ছবিটি লাইক এবং শেয়ার করে বন্ধুদের কাছেও পৌঁছে দিন।।

Friday, 9 September 2016

__কাজী নজরুল ইসলাম

দিও নাকো পশু কোরবানি,
বিফল হবেরে সবখানি
মনের পশুরে করো জবাই,
পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।
_________কাজী নজরুল ইসলাম

হে নির্মম, দাও আমাকে তোমার ঐ সন্ন্যাসের দীক্ষা।
_____কবিগুরু

এসো নীপবনে ছায়াবীথিতলে,

এসো নীপবনে ছায়াবীথিতলে,
এসো করো স্নান নবধারাজলে॥
দাও আকুলিয়া ঘন কালো কেশ, পরো
দেহ ঘেরি মেঘনীল বেশ–
কাজলনয়নে, যূথীমালা গলে, এসো
নীপবনে ছায়াবীথিতলে॥
আজি ক্ষণে ক্ষণে হাসিখানি,
সখী, অধরে নয়নে উঠুক চমকি।
মল্লারগানে তব মধুস্বরে দিক্ বাণী
আনি বনমর্মরে।
ঘনবরিষনে জলকলকলে এসো
নীপবনে ছায়াবীথিতলে॥

আজ জ্যোত্‍‌স্নারাতে সবাই গেছে


আজ জ্যোত্‍‌স্নারাতে সবাই গেছে বনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে॥
যাব না গো যাব না যে, রইনু পড়ে ঘরের মাঝে—
এই নিরালায় রব আপন কোণে।
যাব না এই মাতাল সমীরণে॥
আমার এ ঘর বহু যতন ক’রে
ধুতে হবে মুছতে হবে মোরে।
আমারে যে জাগতে হবে, কী জানি সে আসবে কবে
যদি আমায় পড়ে তাহার মনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে॥

রচনা: ২২ চৈত্র ১৩২০ (৫ এপ্রিল ১৯১৪), শান্তিনিকেতন।

ব্যর্থ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


যদি প্রেম দিল না প্রাণে
কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে?
কেন তারার মালা গাঁথা,
কেন ফুলের শয়ন পাতা,
কেন দখিন হাওয়া গোপন কথা জানায় কানে কানে?।
যদি প্রেম দিলে না প্রাণে
কেন আকাশ তবে এমন চাওয়া চায় এ মুখের পানে?
তবে ক্ষণে ক্ষণে কেন
আমার হৃদয় পাগল হেন,
তরী সেই সাগরে ভাসায় যাহার কূল সে নাহি জানে?।
শান্তিনিকেতন

২৮ আশ্বিন ১৩২০
(কাব্যগ্রন্থঃ সঞ্চয়িতা)

Wednesday, 7 September 2016

আমি চিনি গো চিনি তোমারে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমি চিনি গো চিনি তোমারে
ওগো বিদেশিনী ।
তুমি থাক সিন্ধুপারে
ওগো বিদেশিনী ।।

তোমায় দেখেছি শারদপ্রাতে,
তোমায় দেখেছি মাধবী রাতে,
তোমায় দেখেছি হৃদি-মাঝারে,
ওগো বিদেশিনী ।
আমি আকাশে পাতিয়া কান
শুনেছি শুনেছি তোমারি গান,
আমি তোমারে সঁপেছি প্রাণ
ওগো বিদেশিনী ।
ভুবন ভ্রমিয়া শেষে
আমি এসেছি নূতন দেশে,
আমি অতিথি তোমারি দ্বারে
ওগো বিদেশিনী ।।
মাতৃভূমি তুমি কার...............
প্রিয় মাতৃভূমি তুমি কার?
তুমি একসময় অামার ছিলে কিন্তু অাজ অার নেই!
এখন তুমি অামার কেবলি হাহাকার।
প্রিয় মাতৃভূমি তুমি কার?
তোমার জন্য কত রক্ত দিয়েছি,
কত ধর্ষিতা হয়েছি, কত অাত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়েছি
তবুও তোমার জন্য কেঁদেছি বারবার।
প্রিয় মাতৃভূমি তুমি কার?
তোমার ভূখন্ডে কত অনাহারি মানুষের অার্তনাদ শুনেছি, শুনেছি ধর্ষিতা মায়ের কান্না, শুনেছি মালাউন গালি, শুনেছি কাফের গালি তবুও স্বপ্ন দেখেছি শ্যামল বাংলার।
প্রিয় মাতৃভূমি তুমি কার?
তোমার ভূমিতে জন্ম নিয়েছে অগুনিত হিন্দু মালাউন
যারা দেশের জন্য দিয়েছে গৌরব অার সম্মান! রাখতে পারনি তার মান! তাই বলে কখনো তোমাকে দেইনি কষ্টের ভান্ডার।
প্রিয় মাতৃভূমি তুমি কার?
তোমার সবুজ, সুফলা, সুজলা, শস্য শ্যামলা পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলাম অাপন বেশে! তবুও বেয়ে চলেছি তরী পারাপার।
প্রিয় মাতৃভূমি তুমি কার?
তোমার জন্য হয়েছি মালাউন, হয়েছি কাফের, হয়েছি পৌত্তলিক, হয়েছি দেশান্তরি তবুও ভালোবেসে গেছি। লজ্জা, ঘৃনা ভয় করে বাস করছি ওদের রক্তচক্ষুর।
প্রিয় মাতৃভূমি তুমি কার?
তুমি কি হিন্দুর, না মুসলমানের, না খ্রিষ্টানের, না বৌদ্ধর, না অাদিবাসির, না নাস্তিকের, না হিজরার, না জৈনের, না শিখের!!!
তোমার কাছে শুধুই এ জিজ্ঞাসা অামার।
জয়ন্ত-৭/০৯/১৬

Tuesday, 6 September 2016

  ( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর )


আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে
আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।
এ জীবন পুণ্য কর দহন-দানে॥
আমার এই দেহখানি তুলে ধরো,
তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো--
নিশিদিন আলোক-শিখা জ্বলুক গানে॥
আঁধারের গায়ে গায়ে পরশ তব
সারা রাত ফোটাক তারা নব নব।
নয়নের দৃষ্টি হতে ঘুচবে কালো,
যেখানে পড়বে সেথায় দেখবে আলো--
ব্যথা মোর উঠবে জ্বলে ঊর্ধ্ব-পানে॥

রচনা: সুরুল ১১ ভাদ্র ১৩২১ (২৭ অগস্ট ১৯১৪)